আমাদের পরবর্তী সংখ্যায় লেখা পাঠাতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ এ ইনবক্স করুন অথবা ইমেইল করুন Ghuri2014@hotmail.com এই ঠিকানায়।

ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

সাহিত্যকে স্বাধীন ভাবে বিকশিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা।

(প্রথম সংখ্যা)ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

সকল অপেক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে ২৯শে জুলাই "ঘুড়ি–একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা" এর "প্রথম সংখ্যা" প্রকাশ পেয়েছে। ৪টি ছোট গল্প, ২টি প্রবন্ধ, ২টি প্রতিবেদন ও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে প্রথম সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে। তার মাঝে আছে বেশ কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের লেখা। আশাকরি সবার কাছে লেখা গুলো ভালো লাগবে।

(দ্বিতীয় সংখ্যা)ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

মহান বিজয় দিবসে আমাদের "ঘুড়ি–একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা" এর "দ্বিতীয় সংখ্যা" প্রকাশ পেয়েছে। ৪টি ছোট গল্প, ১টি প্রতিবেদন ও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে দ্বিতীয় সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে। তার মাঝে আছে বেশ কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের লেখা। আশাকরি সবার কাছে লেখা গুলো ভালো লাগবে।

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

আমাদের কাছে লেখা পাঠানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজঃ www.facebook.com/Ghuri2014 এ ইনবক্স করুন অথবা ই-মেইল করুনঃ Ghuri2014@hotmail.com

"গল্প ও কবিতা প্রতিযোগিতা - ১" লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
"গল্প ও কবিতা প্রতিযোগিতা - ১" লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

স্বাধীন দেশের পশু - ফয়সাল বিপু (৩য় সংখ্যা)


আমি আব্দুল করিম বলছি,
আমি ৬২ বছরের বৃদ্ধ এক রিকশাআলা

পরিচয় শুনে আগ্রহ হারিয়েছো নিশ্চয়

যাও চলে যাও আমার কথা শুনতে হবেনা

ডিসেম্বর কিন্বা মার্চে এসো মুক্তির গল্প শুনতে

শুনাবো না

বছরের দুটা মাস আমায় মানুষ বলে মনে হয়

বাকি কালে আমি কি পশু?
যাও পশু হয়েই রইলাম

তবে তাও আমি খুশি
 স্বাধীন দেশের পশুতো
মনে পরে সেই একাত্তরের কথা

বাবা মাকে গুলি করে মারার দৃশ্য,
বোন টাকে নির্যাতন করা মারার দৃশ্য,
বাবা মায়ের লাশ ছুঁয়ে দেশকে স্বাধীন করার অঙ্গীকার

স্বাধীন করলাম, কিছু পাই না পাই স্বাধীন দেশতো পেয়েছি

তবে আক্ষেপ আছে

আমার বোনটাকে ঘরে আটকে যারা পশুর মত কিছু করেছিলো
তারা আজ বিখ্যাত

মুক্তিযুদ্ধকালে যারা ভীরুর মত পালিয়েছিলো
দিনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ রাতে জয় বাংলা বলে দুজনকেই খুশি করতো

তাদের নাম দেশের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে

আমার মত কামলার লাষ আজ রাস্তায় পুড়ে

দুদিন খবরের শিরনামে আসে সে কথা এরপর নিশ্চুপ

তবে তার পরে আমি খুশি

নিজের ভাষায় কথা বলিত

গান শুনিতো

পশু হলে কি হবে
 আমি স্বাধীন দেশের পশু
 

মৃত্যু নিয়ে ফষ্টিনষ্টি বন্ধ করো - রাজীব রায়হান (৩য় সংখ্যা)


শহরে শহরে খবর রটিয়ে দাও-
এখন থেকে লাগাতার অবরোধ। 
মহামান্য কবিপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে প্রজ্ঞাপন জারি করো এই মর্মে-
এখন থেকে কবিতাই আইন
যতদিন না জাগছে ওদের বেশ্যার যোনিতে আটকে যাওয়া বোধ। 

ধারালো অক্ষরে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘেরাও করো খুনিদের বাড়ি;
নিতম্বে খাপখোলা কলম ঠেকিয়ে বাধ্য করো মহাকাব্য লিখতে;
ওদের বুঝিয়ে দাও, কবিতায় পুড়ে মরার কষ্ট কি নির্মম! কি অসহ্য!

কবিতা লেখার নাম করে ধর্ষকের পা চাটতে গেছে যেসব কুকুরছানা;
ওদের সবার পেছন দিয়ে সেদ্ধ কবিতা প্রবেশ করাও। 

কবিতার একটা অক্ষরও যদি কেউ ভাংচুর করে,
শব্দ কিংবা বাক্য দিয়ে পিটিয়ে থেঁতলে দাও তার মগজ এবং
তাকে সোপর্দ করো প্রেমিক বাহিনীর কাছে। 

উড়ন্ত চুমুর বদলে কাউকে উড়ন্ত মৃত্যু ছুঁড়ে দিতে দেখলে,
অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করো এবং বিচারের ব্যবস্থা করো। 
মাত্রাবৃত্ত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ঘোষণা করো, যাবজ্জীবন কাব্যদন্ড
কিংবা আমৃত্যু কবিতায় ঝুলিয়ে রাখার রায়। 

খুনিরা কেবলই ভাবে, দেশটা ওদের; কবিরা সবাই মরে গেছে প্রায়। 
রাহুর হাত থেকে ভাষা বাঁচাতে আমার ভাই মরে গেছে,
পিতার জীবন বেচে কিনেছি এ দেশ; ওরা ভুলে গেছে, ওরা ভুলে যায়। 

সূর্যসন্তান - শাকিল রনি (৩য় সংখ্যা)


বরুণ'দা বলেছিল

ঘাবড়াসনে সুকান্ত গতকাল সূর্যটা আসেনি তাতে কি
আগামীকাল ভোরে ঠিক চলে আসবে
তোদের জন্য সূর্যটা আনতেই তো যুদ্ধে যাচ্ছি
মাকে দেখে রাখিস- তুই পাশে থাকলে মা সাহস পাবেন
আমরা সবাই পাশে থাকলে আমাদের বঙ্গমাতা সাহস পাবে
এতো সহজ নাকি রে কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে
আমাদের দেশটাকে ওরা চাঁদ তারার পতাকায় ঢেকে দিবে
ছাড়বার পাত্রটি আমরা নই- ওরা জানেনা রে
আমরা যে বাংলা মায়ের দামাম ছেলে
আমাদের দেশটা অনেক সবুজ- শুধু সূর্যটা একটু দূরে সরে গেছে
দেখিস কাল সূর্যটাকে বাংলার ঘরে নিয়ে আসবো
ভালো থাকিস- মাকে বলিস
তোমার ছেলে স্বাধীনতার সূর্য না এনে ফিরবে না
দাদা, আমার ভয় করে যদি তোর কিছু হয়ে যায়
আরো তো অনেকে আছে, তোর যাওয়ার কি দরকার
আরে পাগল এতো ভয় পাচ্ছিস কেনো
তোর দাদা ঠিকটি ঘরে ফিরে আসবে, দেখে নিস

বরুণ'দা চলে গেলো, চলে গেলো আরো বিয়াল্লিশটি বছর
দাদা আমার আজো ঘরে এলোনা- এসেছিল শুধু একটাই খবর
নয় মাস যুদ্ধ করে দাদা দিয়ে গেছে আমাদের টকটকে লাল এক সূর্য
মা বলেন, তোর দাদা কোথায় আছে জানিস- ঐ সূর্যের বুকে
তোর দাদা প্রতি ভোরে সূর্যের আলো হয়ে ফুটে এই বাংলার বুকে
যতদিন এই পৃথিবীতে সূর্য থাকবে- তোর দাদা বেঁচে থাকবে রে সুকান্ত

দাদা জানিস, মা তবুও প্রতি সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বেলে
রক্ত জবা গাছের নিচে বসে থাকে
তোর জন্য কুশিকাটায় সোয়েটার বুনে- গত বিয়াল্লিশটি বছর ধরে বুনছে
আমি মায়ের পাশে এসে বসলেই আমায় বলে, দেখি একটু পিছন ফিরে বসতো
আমার গায়ে সোয়েটারের মাপ নিয়ে বলে
তুই তো তোর দাদার মতোই হয়েছিস, তোর মাপেই তোর দাদার হয়ে যাবে

মায়ের চোখে অশ্রু গড়ায়- দাদারে আমার বুকটা ফেটে যায়
মাকে বলি, মা চলো ঘরে চলো- ঠান্ডা বাতাস ছেড়েছে ঘরে চল মা
তোমার সুর্যসন্তান এই সন্ধ্যায় আসেনি তাতে কি
দেখো আগামীকাল ভোরে ঠিকটি চলে আসবে। 

ট্রানজিট অব হ্যাডেস – ২ - মোঃরাসেল আপন (৩য় সংখ্যা)


ট্রানজিট অব হ্যাডেসের পাশে এসে দাঁড়ালেন স্বর্গ দেবতা জিউসচিন্তিত ও বিমর্ষ মুখে একবার তাকালেন ট্রানজিট অব হ্যাডেসের কালো দেয়ালার দিকে এবং আরেকবার তাকালেন স্বর্গের থেকে অত্যধিক সুখসমৃদ্ধ স্থান ট্রানজিট অব হ্যাডেসের ভিতরের দিকে তিনি কিন্তু ট্রানজিট অব হ্যাডেস নিয়ে চিন্তিত নয় ইতিমধ্যে ভালবাসার দেবী আফ্রোদিতি এসে দাঁড়ালেন মহারাজ জিউস এর সামনে তারপর অতি বিনয়ের সুরে বললেন........

-মহারাজ
 আপনি কি কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত?
-হঠাৎ ঘুম ভাঙার মতই বললেন হ্যাঁ আমি পৃথিবীর মানুষ গুলোকে নিয়ে চিন্তিত
 পৃথিবীর মানুষ যেভাবে বর্বর হচ্ছে, তাদের প্রেম শূন্য হৃদয় যেভাবে পাথরের আস্তরণের মত রূপ নিচ্ছে তাতে অতি শীঘ্রই পৃথিবী ধ্বংস হতে বাকি নেই কিন্তু, আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না যে, আপনি থাকতে কেনইবা পৃথিবী প্রেম শূন্যে পরিণীত হচ্ছে
-দেবীর কাছ থেকে প্রতি উত্তর হিসেবে ঠোঁটের কোণায় উজ্জ্বল হাসির রেখা দেখা গেল
 তিনি আর না দাঁড়িয়ে চলে গেলেন 

ইতিমধ্যে মহারাজের পাশে এসে দাঁড়াল দৈব বানীর দেবতা এপোলো
 মহারাজ এবার প্রশ্নটি এপোলোকে লক্ষ্য করে বললেন এপোলো তখন বলতে শুরু করল......

-মহারাজ, আপনি হয়তবা জানেন নিশ্চয়ই যে, মানব সমাজে রাজকুমারী সাইকি হল তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট
 তার মহনীয় রূপের কারণে মানুষ ছুটে যায় একনজর তাকে দেখার জন্য এ রূপের কথা দেবী আফ্রোদিতির ও অগোচর ছিল না মূলত, মর্তের পুরুষরা সাইকিকে মর্তের মানবী নয় স্বর্গের দেবী হিসেবে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে থাকে এতে দেবী মনঃক্ষুণ্ণ হয় এমনকি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রণয় দেবী আফ্রোদিতি সাইকির ছদ্মরূপে মর্তে আবির্ভূত হয়েছেন এতে করে প্রকৃত পক্ষে জনশূন্য হয়ে পড়ে দেবী আফ্রোদিতির মন্দির অবশেষে দেবী একথা যখন জানলেন তখন মানুষদেরকে তার মন্দিরে ফিরিয়ে আনার জন্য কৌশলী হয়ে উঠলেন তিনি তার পুত্র প্রেমের দেবতা কিউপিডকে সবিস্তারে বললেন কিউপিডকে তিনি সাইকির উপর প্রেমতীর নিক্ষেপ করতে বলেন যেন সাইকি পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত চেহারায় পরিণীত হয় অথবা তার শরীরে তীর নিক্ষেপ করে তার সামনে কুৎসিত প্রাণী রেখে দিতে যাতে করে সে ঘুম থেকে উঠে ঐ প্রাণীর প্রেমে পড়ে যায় কিউপিড মায়ের কথামত চলে গেল সাইকির রাজ-প্রাসাদে কিন্তু সমস্যা বাঁধল তীর নিক্ষেপের সময় এমন সময় সাইকির ঘুম ভেঙে গেল কিউপিড তীর নিক্ষেপ করতে যেয়ে সাইকির রূপের দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে সাইকির বাহুতে তীর নিক্ষেপ করল ফলে কিউপিডের তীর সাইকিকে প্রেমাসক্ত করে তুলল অবশেষে কিউপিড ও সাইকি একে অন্যের প্রেমে মগ্ন হয়ে গেল একপর্যায়ে প্রেমকাতর কিউপিড ফিরে এসে সবকিছু খুলে বলল মা আফ্রোদিতিকে এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আফ্রোদিতি এবং সাইকিকে অভিশাপ দেন যে সাইকির রূপের সবাই মুগ্ধ হলেও কেউ সাইকিকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবেনা এবং কিউপিড ও সাইকি একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতে পারবে না এর ফলে তাদের দুজনের প্রেম ভেস্তে গেল দুজনের মধ্যে দুরুত্ব সৃষ্টি হল আকাশ-পাতাল কিউপিড সিক্ত হৃদয়ে প্রতিজ্ঞা করল যতদিন না সাইকি অভিশাপ হতে মুক্ত হচ্ছে ততদিন সে পৃথিবীর কারও উপর প্রেমতীর নিক্ষেপ করবে না আর সেদিন হতে তার প্রেম তীর নিক্ষেপ বন্ধ হওয়াতে পৃথিবীর মানুষ প্রেমশূণ্য হতে লাগল মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা কমে গেল মানুষ হয়ে উঠলো বর্বর ও কঠিন আর সেদিন হতে মানুষের বুক থেকে যতই প্রেম কমতে থাকলে ট্রানজিট অব হ্যাডেসের দেয়াল ততই শক্ত ও কালো হতে লাগল

দীর্ঘক্ষণ দেবতা এপোলোর কাছ থেকে সবকিছু জানার পর গম্ভীরতা ভাঙলেন দেবরাজ
জিউস তিনি তৎক্ষণাৎ আদেশ করলেন দেবী আফ্রোদিতি, কিউপিড ও সাইকিকে ডাকার জন্য 

কিছুক্ষণ পর দেবী আফ্রোদিতি, কিউপিড ও সাইকি তিনজনই দেবরাজ জিউসের সামনে উপস্থিত হল
 তখন দেবরাজ জিউস বললেন আফ্রোদিতিকে.........­.

-দেবী এগুলো যা শুনলাম তা কি সত্য?
-মহারাজ ভুল কিছু শোনেন নি
 যা শুনেছেন তা সবই সত্য
-কিন্তু তোমার এই অভিশাপের ফলে পৃথিবীর বুকে প্রেমহীন মানুষ সৃষ্টি হচ্ছে
 এ থেকে পরিত্রাণের কি কোন উপায় নেই? অথবা তুমি সাইকিকে কি কোনভাবে ক্ষমা করতে পার না
-উত্তরে দেবী বললেন, একটা কাজ করতে পারলে আমি সাইকিকে ক্ষমা করে দেব
 তখন দেবী সাইকিকে তিনটা শর্ত পূরণ করার কথা বললেন 
-তখন দেবরাজ জিউস সাইকিকে জিজ্ঞাসা করল যে, সে দেবীর শর্তে রাজী আছে কি না?
-সাথে সাথে সাইকি দেবরাজ জিউসের প্রশ্নের উত্তরে সম্মতি প্রকাশ করল
 এবার সাইকি মুখোমুখি হল তিনটি কঠিন শর্তের সামনে প্রথম শর্ত হলো সাইকিকে একটি ঝুড়িতে রাখা কয়েক প্রকারের ডালের মিশ্রণ রাত শেষ হওয়ার আগে প্রত্যেকটা ডাল আলাদা করতে হবে সাইকি কিছু পিঁপড়ার সাহায্যে সাইকি দ্রুত করে ফেলল দ্বিতীয় শর্তে সাইকিকে বলা হলো সহস্রাধিক ভেড়াদের মধ্য থেকে একটি সোনালী ভেড়ার কাছ থেকে সোনালী পশম আনতে হবে এবার সোনালী পশম আনতে সাইকিকে সাহায্য করল ঈগল ভেড়া গুলো যখন ঘুমিয়ে পড়ল তখন ঈগল চুরি করে সাইকিকে সোনালী পশম এনে দিল এবার শেষ শর্তে সাইকিকে দেবী বলল যে, ছেলের চিন্তায় তার রূপ কমে গেছে তাই পাতালের দেবী পার্সিফোনের কাছ থেকে ছোট বাক্সে করে কিছু রূপ আনতে হবে কিন্তু এ কথা শোনার সাথে সাথে সাইকির মাথায় যেন বজ্রপাত পড়ল সে কিভাবে পাতালের দেবী পার্সিফোনের কাছ থেকে রূপ আনবে? সে তো দেবী না আর জীবিত মানবরা তো পাতালে প্রবেশ করতে পারবে না অবশেষে সে দুঃখে, অপমানে পাহারের চূড়ায় উঠল আত্মহত্যা করার জন্য এমন সময় বায়ুর দেবতা জেফারাইস তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো তিনি সাইকিকে জীবিতাবস্থায় কিভাবে পাতালে যেতে হয় সে পথ বলে দিল তখন সাইকি খুশি মনে পাতালের দেবী পার্সিফোনের কাছ থেকে রূপ এনে দেবী আফ্রোদিতির কাছে দিল 

অবশেষে শর্ত পূরণে খুশি হয়ে দেবী সাইকিকে অভিশাপমুক্ত করে দিল তারপর দেবরাজ জিউসের সামনে দেবতা এপোলো সাইকি ও কিউপিডকে সামী স্ত্রী-হিসেবে অনুমতি দিলেন এবং একই সাথে দিলেন অমরত্ব দেবরাজের সামনে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো অবশেষে সুখ-সমৃদ্ধির অমরত্ব জীবন নিয়ে কিউপিড আবার মানুষের উপর মারা শুরু করল প্রেমতীর পৃথিবী আবার ভরে উঠল ভালবাসায় বর্বর থেকে মানুষ আবার শিখল প্রেম করতে, অন্যকে ভালবাসতে শুরু হল নতুন করে প্রেমময় পৃথিবীর জীবনযাত্রা
 

সাদা সাদা মেঘগুলি - নাসিম বিজয় (৩য় সংখ্যা)


রমনার এক বেঞ্চিতে বসে অনিরুদ্ধ সাহেব আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেনসরাসরি নয়,গাছের পাতার ফাকা দিয়েএটা তার অভ্যাসযখন তিনি একা থাকেন,প্রায়ই তাকে এ কাজটি করতে দেখা যায়আরও দেখা যায় পানির দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকতেতার সামনেই রমনার বিশাল পুকুরপানিতে হোক আর আকাশেই হোক,মেঘ দুজায়গাতেই দেখা যায়আকাশে মেঘ ওড়ে,আর পানিতে ভাসে-এরকমটা ভাবতে তার ভাল লাগে
হঠাৎ তার বেঞ্চির সামনের রাস্তাটিতে বুঝি কেউ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল
অনিরুদ্ধ সাহেবের চোখ সেদিকে যেতেই তিনি দেখছেন এক যুবক একটি মেয়ের হাত ধরে মেয়েটিকে দাড়াতে সাহায্য করছেমেয়েটি দাড়িয়ে থ্যাংকস বলে জবাবের অপেক্ষা না করেই হাটতে শুরু করলোছেলেটি বিড়বিড় করে কি যেন বললো,তারপর সেও তার গন্তব্যে রওনা দিল
মনে পড়ে,এক বৃহস্পতিবারে রিনা এভাবে এই একই পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিল,এই বেঞ্চিটিরই সামনে
অনিরুদ্ধ সাহেব তখন বাইশ বছরের যুবকতিনি মেয়েটিকে পড়ে যেতে দেখে হাটা থামালেনতারপর মেয়েটির দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন তিনিমানুষ এতো সুন্দর হতে পারে!তার তখন মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা রূপবতী নারীদের একজন তার সামনে রমনার এক রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলতিনি মেয়েটির দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলেননে যেন চাঁদ দেখছে,পূর্ণিমার চাঁদহঠাৎ মেয়েটি বললো,

-এই যে,হাধারামের মতো কি দেখছেন?দেখছেন একটা মেয়ে রাস্তায় পড়ে আছে,কই উঠতে হেলপ্ করবেন,আর হা করে তাকিয়ে আছেন


-না মানে. . .

-আরে মানে টানে পড়ে
আগে ক্র্যাচটা একটু দিনদেখছেন তো পায়ে সমস্যা,উঠতে পারছিনা

এতক্ষণ তার চোখই যায়নি মেয়েটির পায়ের দিকে
মেয়েটি হাটতে পারেনা স্বাভাবিকভাবেক্র্যাচে­র উপর ভর করে হাটতে হয় মেয়েটিরবিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে না উঠতেই মেয়েটি আবারো বলে উঠলো,

-কি হলো?
দিচ্ছেন না যে?

-ও হ্যাঁ হ্যাঁ
দুঃখিতআমি আসলে আপনার পা খেয়াল করিনি

বলতে বলতে ঢালু থেকে তুলে ক্র্যাচটা দিলেন তিনি
মেয়েটির হাত ধরে সাহায্য করলেন মেয়েটিকেমেয়েটি বললো,

-থ্যাংকস

-ম্যানশন নট
কিন্তু আপনার পা এরকম কিভাবে হলো?

-ছোটখাটো একটা এক্সিডেন্ট বলা যেতে পারে
আরেকদিন দেখা হলে বলবোআমি একটু ব্যস্ত

-আচ্ছা

-যাই তাহলে...বাই

জবাবের অপেক্ষা না করেই মেয়েটি এক-পা এক-পা করে এগুতে লাগলো
হঠাৎ তিনি পেছন থেকে ডাকলেন মেয়েটিকে,

-এই যে. . .

মেয়েটি পেছনে তাকালো
মেয়েটির চোখের দিকে তাকানো কষ্টকরএ যেন মধুর কষ্টঅতিমাত্রায় সুন্দর কোনো কিছুর দিকে একনজরে বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায়নামেয়েটি যেন চোখ নাচিয়ে জানতে চাইলো,কি জন্যে ডেকেছেন? তিনি তখন বললেন,

-আপনার ঘড়িটা...পড়ে গিয়েছিলো হয়তো তখন


-মেয়েটি নিজ হাতের দিকে তাকালো
তারপর হঠাৎ জোরে বলে উঠলো,

-ও থ্যাংকস গড
থ্যাংক ইউ সো মাচদিন এটা আমায়এটা আমার সবচাইতে প্রিয় জিনিসবাবার দেয়া শেষ উপহার

-বাবার দেয়া শেষ উপহার মানে?তিনি কি আর বেচে নেই?

মেয়েটি মাথা নাড়লো
তার বাবা বেচে নেইমেয়েটি বললো,

-থ্যাংকস এগেইন এন্ড গুড বাই


-বাই. . .

মেয়েটি আবার হাটা শুরু করলো সেই একই গতিতে
যতক্ষণ মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছিলো
অনিরুদ্ধ সাহেব মেয়েটির এক পা করে সামনে আগানোর দৃশ্য দেখছিলেনহঠাৎ তার মনে হলো,মেয়েটির নামটাই তো জানা হলনাএকই সাথে ভাবতে থাকেন,মেয়েটির নাম জানতে কেন ইচ্ছে করছে তার?সে কি মেয়েটির প্রেমে পড়েছে?সিনেমা আর গল্প-উপন্যাসের মতো প্রথম দেখায় প্রেম?কে জানে এসব?অনিরুদ্ধ সাহেব এসব ভাবতে ভাবতে মুচকি হাসলেনআবার হাটতে শরু করলেন পাবলিক লাইব্রেরীর দিকে রমনার পথ ধরে

সেদিন পাবলিক লাইব্রেরী গিয়ে কোন পড়া হয়নি তার
বই রেখে আবার ঐ মেয়েটির হোঁচট খাওয়া জায়গার সামনের বেঞ্চিটিতে এসে বসলেনতারপর হারিয়ে গেলেন গভীর ভাবনায়

ভাবনার ঘোর কাটতেই অবাক হলেন তিনি
কখন সন্ধ্যা হয়ে গেল তিনি বুঝতেই পারেননিহঠাৎ চারদিক অন্ধকার দেখা ব্যাপারটা অসংজ্ঞায়িতনিজেকে বোকা বোকা মনে হয়
সে হেটেই রাতে বাসায় ফিরলো,অনেক কথা ভাবতে ভাবতে
তার কি উচিত ছিলনা মেয়েটিকে কিছুদূর এগিয়ে দিয়ে আসা?

সেই রাতটাও বুঝি যেতে চায়না
অঘুমে কাটলো ফজরের আগ পর্যন্তফজরের ঠিক পরপরই গভীর ঘুমসেই ঘুম ভাঙলো দুপুর বারোটায়মা অনেক ডেকে উঠালেনঅনি,এই অনিউঠ এক্ষুনিবারোটা বাজে ঘড়িতেউঠ....
দেরিতে ঘুম থেকে উঠায় মা বকবক করেই যাচ্ছেন
ওসব কিছুই কানে ঢুকছেনা তারসে ঘুম থেকে উঠতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লোদুইটার মধ্যে তাকে রমনায় পৌছাতে হবে
ঘড়িতে একটা সাইত্রিশ
রমনার ঐ বেঞ্চিটায় বসে আছে অনিবাইশ বছরের সুদর্শন যুবকখোঁচা খোঁচা দাড়ি,চোখে কালো ফ্রেমের চশমা ,চেহারায় এক অন্যরকম মায়া তারমানুষ মায়ার পাগল,মায়ায় পড়ে মানুষ নিজ জীবন কেউ তুচ্ছ করতর পারেঅসম্ভব কিছুই নয়

সময় যেন যাচ্ছেইনা,সেই সাথে মেয়েটিও আসছেনা
গতকাল এমন সময়েই মেয়েটিকে এই সামনের রাস্তাটায় পড়ে থাকতে দেখেছিলো সেএকটা চল্লিশ,বেয়ল্লিশ,তেতাল্লিশ,ছেচল্লিশকি করা যায় এখন? এভাবে ঘড়ি দেখে সময় কাটানো বিরক্তিকর ব্যাপার
হঠাৎ সে ভাবলো,মেঘ দেখলে কেমন হয়?সময় কাটানোর জন্য মেঘ দেখার মতো কাজটাকে অনির কাছে অনেক মূল্যবান মনে হলো
গাছের ফাকা দিয়ে আকাশের দিকে তাকালো অনিরোদেলা আকাশে চিকচিক করছে সাদা মেঘহঠাৎ সামনের পুকুরের দিকে
চোখ পড়তেই আরো ভালো লাগলো অনিরপানিতে মেঘ দেখা যায় এটা সে জানতো,কিন্তু এতোটা অপূর্ব!অনি মনে মনে মেঘের এই ব্যাপারটাকে কথা দিয়ে সাজালো,মেঘ অনেক সাধারণ আবার একইসাথে অসাধারণকারন মেঘ একই সাথে আকাশে ওড়ে আর টানিতে ভাসেসত্যিই অদ্ভুত

সময় তিনটা সতেরো
অনি সেই বেঞ্চিতেই বসে আছেমেয়েটি এখনো আসেনিআজকে আর আসবে বলেও মনে হচ্ছেনা অনিরক্লান্তভাব নিয়ে অনি বাসায় ফিরলো

সেদিন বৃহস্পতিবার ছিল
এক রূপবতী নারী অনির সামনে রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলোআজ আর একটা বৃহস্পতিবারগতকাল পর্যন্ত অনি এই বেঞ্চিতে বসে ছিল দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটাআজ শেষদিনের মতো অনি বসেছে ঐ মেয়েটির প্রতীক্ষায়এভাবে প্রতিদিন এক অপরিচিত মেয়ের জন্য বসে থেকে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয়না

সময় দুটা তেরো
অনি তখন ঐ বেঞ্চিতে বসে গভীর মনোযোগে স্যান্ডেল দিয়ে অহেতুক খোঁচাচ্ছিলহয়তো তা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বাহ্যিক প্রতিফলনএমন সময় এক নারীকন্ঠ ভেসে আসলো,

-আরে আপনি সেই লোকটা না?

অনি মাথা তুলে তাকাতেই চোখের সামনে সেই রূপবতীকে দেখতে পেলো
সে বুঝতে পারছেনা তার কি করা উচিতযার জন্য এই প্রতীক্ষা সে এখন তার সামনে দাড়িয়েমেয়েটি বললো,

-হুম. . .আ
পনিইতোতা আছেন কেমন?

-ভালো আছি
আপনি?

-আমিও ভালো
ও....নামটাই তো জানা হলোনাআমার নাম রিনাআপনার?

-অনিরুদ্ধ
অনিরুদ্ধ আহমেদ অনি

-খুব ভালো নাম
আমি কি এখানে বসতে পারি?

অনি হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে বললো,

-হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই


এভাবেই শুরু হয়েছিলো দুটি জীবনের মিশে যাওয়া
অনি একদিন এই বেঞ্চিতে বসেই বলেছিল রিনাকে,

-দেখো রিনা,ঐ আকাশে
মেঘ দেখতে পাচ্ছো না?

-হুম
দেখতে পাচ্ছিসাদা সাদা মেঘ

-হ্যাঁ. . .জানো এই মেঘ অনেক অদ্ভুত


-কি?

-অদ্ভুত


-ও. . .

-বলতো কেন?

-অদ্ভুত তো আমার কাছে না,তোমার কাছে
তাহলে আমি কি করে বলি বলো?

-তাও ঠিক
কিন্তু অনুমানের চেষ্টাতো করো?আচ্ছা আমিই বলছি,মেঘ অদ্ভুতকারন কারন
  এটা আকাশে তো ওড়েই সাথে আবার পানিতেও ভাসেঐ দেখো. . .

-ও তাই?

-হুম. . .

-তাহলে কাক?

-কাক মানে?এখানে কাক আবার কোথা থেকে আসলো?

-তোমার কথা অনুসারে তো কাকেরও অদ্ভুত হওয়া উচিত
কারণ কাকও আকাশে ওড়ে সেই সাথে পানিতেও ভাসেঐ দেখো. . .

অনি মুখ গোমড়া করে ফেললো
সে কত সুন্দর একটা জিনিস ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলো আর রিনা কিনা তার সাথে একটা কাককে তুলনা করলো?সে পুরো চুপ হয়ে রইলআর রিনা তার গোমড়া মুখ দেখে হাসতে থাকলো


তাদের যখন বিয়ে হয় অনির বয়স তখন চব্বিশদীর্ঘ ত্রিশ বছরের বৈবাহিক জীবন তাদেরদুজন দুজনের সার্থক ভালবাসানিজের মতো করেই দুজন দুজনকে পেয়েছিলোতাদের কোনো সন্তান-সন্ততি ছিলোনাতাতে তাদের তেমন কোনো দুঃখও নেইবরং অন্য ভুবনের এক আনন্দ এতে লুকিয়ে আছে
আজ চুয়ান্ন বছরের অনিরুদ্ধ সাহেব সেদিনের বাইশ বছরের অনির মত করেই ভালবাসেন রিনাকে
অনেক সুখী সে,সে সুখের কোনো অন্ত নেই,সাথে আছে ভালোলাগাটাও

তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের শত্রু থাকতে পারে,কিন্তু ভালবাসার কোনো শত্রু থাকেনা
তবে আজ কেন তার পাশে রিনা নেই?সবই তো আছে আগের মতআজও ঐ মেঘ আকাশে ওড়ছে,পানিতেও ভাসছেকাকটাও সেই একই কাজ করছেকোনোকিছুই তো বদলায়নিতবু কেন রিনা এই বৃদ্ধ বয়সে নেই তার পাশে?

তাদের ভালবাসার একটা শত্রু ছিলো
ক্যান্সার সেই শত্রু যার জন্য অনিরুদ্ধ সাহেব একা বসে আছেন এ বেঞ্চিটিতেঅনেকদিন ধরেই রিনা এককভাবে যুদ্ধ করে যাচ্ছে এই ক্যান্সারের সাথে তাদের ভালবাসাটিকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যক্যান্সার ধরা পড়ার পরও তারা এসেছেলো রমনায়এই বেঞ্চিতটিতেই পাশাপাশি বসেছিলো তারাএকবার নয়,বহুবারকিন্তু রিনা বুঝি আর পারলোনাযুদ্ধে যে ক্যান্সার পরাজিত করেই ছাড়বেডাক্তার আজই বলেছেন,

-অনিরুদ্ধ সাহেব
আমারও যে খুব কষ্ট হচ্ছেআর বেশীদিন নেইখুব বেশী হলে একসপ্তাহ. . .

অনিরুদ্ধ সাহেব শেষবারের মতো এক বৃহস্পতিবারে রমনায় নিয়ে এলেন রিনাকে
সেই বেঞ্চিটিতেই রোগা বৃদ্ধা রিনা আর অনিরুদ্ধ সাহেবতবে এবার তারা পাশাপাশি বসে নয়রিনার মাথা অনিরুদ্ধ সাহেবের কোলেঅনিরুদ্ধ সাহেব বললেন,

-দেখো রিনা
ঐআকাশে মেঘ দেখতে পাচ্ছো?

-কোথায় অনি?কোথায় মেঘ?আমি তো দেখতে পাচ্ছিনা. . .

-ঐ যে দেখো. . .সাদাসাদা মেঘগুলো আকাশে ওড়ছে আবার একই সাথে পানিতে ভাসছে
সাথে ঐ কাকটাওদেখো. . .

-অনি. . .অনি আমি সবকিছু অন্ধকার কেন দেখছি?কিছু বলছোনা কেন অনি?কিছু বলো?হঠাৎ অন্ধকার হলো কেমন করে?

আবারও সেই অসংজ্ঞায়িত ব্যাপার বোকা বানিয়ে দিলো অনিরুদ্ধ সাহেবকেতবে এবারের অসংজ্ঞায়িত ব্যাপারটা একটু অন্যরকমএবারে তো অন্ধকারটা অনিরুদ্ধ সাহেব দেখেননিঅন্ধকার দেখেছে রিনাতবুও এবারের অন্ধকারেও বোকা হতে হলো অনিরুদ্ধ সাহেবকেঅন্যের অন্ধকার দেখায় নিজের বোকা হওয়াটা কি অসংজ্ঞায়িত?অনিরুদ্ধ­ সাহেব অসংজ্ঞায়িত এ জগতে আর শ্বাস নিতে পারছেননাতার দমও বুঝি বন্ধ হয়ে এলোঠিক তখনি বুঝি তার কোলে শোয়া মৃত লাশটি তাকে অসংজ্ঞায়িত এ জগত থেকে মুক্ত করে বলে উঠলো,

-না অনি. . .এটা অসংজ্ঞায়িত নয়
তুমি তো দেখছি দিন দিন বোকা হয়ে গেছোএটা অবশ্যই সংজ্ঞায়িত এবং এরই নাম ভালোবাসা