আমাদের পরবর্তী সংখ্যায় লেখা পাঠাতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ এ ইনবক্স করুন অথবা ইমেইল করুন Ghuri2014@hotmail.com এই ঠিকানায়।

ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

সাহিত্যকে স্বাধীন ভাবে বিকশিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা।

(প্রথম সংখ্যা)ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

সকল অপেক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে ২৯শে জুলাই "ঘুড়ি–একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা" এর "প্রথম সংখ্যা" প্রকাশ পেয়েছে। ৪টি ছোট গল্প, ২টি প্রবন্ধ, ২টি প্রতিবেদন ও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে প্রথম সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে। তার মাঝে আছে বেশ কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের লেখা। আশাকরি সবার কাছে লেখা গুলো ভালো লাগবে।

(দ্বিতীয় সংখ্যা)ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

মহান বিজয় দিবসে আমাদের "ঘুড়ি–একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা" এর "দ্বিতীয় সংখ্যা" প্রকাশ পেয়েছে। ৪টি ছোট গল্প, ১টি প্রতিবেদন ও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে দ্বিতীয় সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে। তার মাঝে আছে বেশ কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের লেখা। আশাকরি সবার কাছে লেখা গুলো ভালো লাগবে।

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

আমাদের কাছে লেখা পাঠানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজঃ www.facebook.com/Ghuri2014 এ ইনবক্স করুন অথবা ই-মেইল করুনঃ Ghuri2014@hotmail.com

কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

স্বাধীন দেশের পশু - ফয়সাল বিপু (৩য় সংখ্যা)


আমি আব্দুল করিম বলছি,
আমি ৬২ বছরের বৃদ্ধ এক রিকশাআলা

পরিচয় শুনে আগ্রহ হারিয়েছো নিশ্চয়

যাও চলে যাও আমার কথা শুনতে হবেনা

ডিসেম্বর কিন্বা মার্চে এসো মুক্তির গল্প শুনতে

শুনাবো না

বছরের দুটা মাস আমায় মানুষ বলে মনে হয়

বাকি কালে আমি কি পশু?
যাও পশু হয়েই রইলাম

তবে তাও আমি খুশি
 স্বাধীন দেশের পশুতো
মনে পরে সেই একাত্তরের কথা

বাবা মাকে গুলি করে মারার দৃশ্য,
বোন টাকে নির্যাতন করা মারার দৃশ্য,
বাবা মায়ের লাশ ছুঁয়ে দেশকে স্বাধীন করার অঙ্গীকার

স্বাধীন করলাম, কিছু পাই না পাই স্বাধীন দেশতো পেয়েছি

তবে আক্ষেপ আছে

আমার বোনটাকে ঘরে আটকে যারা পশুর মত কিছু করেছিলো
তারা আজ বিখ্যাত

মুক্তিযুদ্ধকালে যারা ভীরুর মত পালিয়েছিলো
দিনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ রাতে জয় বাংলা বলে দুজনকেই খুশি করতো

তাদের নাম দেশের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে

আমার মত কামলার লাষ আজ রাস্তায় পুড়ে

দুদিন খবরের শিরনামে আসে সে কথা এরপর নিশ্চুপ

তবে তার পরে আমি খুশি

নিজের ভাষায় কথা বলিত

গান শুনিতো

পশু হলে কি হবে
 আমি স্বাধীন দেশের পশু
 

প্রিয় বাংলাদেশ - মোঃসাব্বির রহমান শুভ (৩য় সংখ্যা)

আগুনের মতো জ্বলিয়াছি আমি!
দেখেছি যখন হানাদার বাহিনী,
এসেছিল তারা দখল করিতে,
আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি।

যুদ্ধ করেছি, তাদের হারিয়েছি!
কুকুর-বেড়ালের মতো তাদের তাড়িয়েছি!
দেশকে মোরা স্বাধীন করেছি
এতো আমার দেশ, প্রিয় বাংলাদেশ।

কত বর্ষা পারি দিয়ে,
এলো নতুন বসন্ত নিয়ে,
এখন কেন এতো হানাহানি!
আমারা কেন এসব মানি!
স্বাধীন দেশ, স্বাধীন রাখিবো
প্রয়োজনে আবার হাল ধরিবো!

কেননা এতো আমারি দেশ, প্রিয় বাংলাদেশ।

মৃত্যু নিয়ে ফষ্টিনষ্টি বন্ধ করো - রাজীব রায়হান (৩য় সংখ্যা)


শহরে শহরে খবর রটিয়ে দাও-
এখন থেকে লাগাতার অবরোধ। 
মহামান্য কবিপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে প্রজ্ঞাপন জারি করো এই মর্মে-
এখন থেকে কবিতাই আইন
যতদিন না জাগছে ওদের বেশ্যার যোনিতে আটকে যাওয়া বোধ। 

ধারালো অক্ষরে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘেরাও করো খুনিদের বাড়ি;
নিতম্বে খাপখোলা কলম ঠেকিয়ে বাধ্য করো মহাকাব্য লিখতে;
ওদের বুঝিয়ে দাও, কবিতায় পুড়ে মরার কষ্ট কি নির্মম! কি অসহ্য!

কবিতা লেখার নাম করে ধর্ষকের পা চাটতে গেছে যেসব কুকুরছানা;
ওদের সবার পেছন দিয়ে সেদ্ধ কবিতা প্রবেশ করাও। 

কবিতার একটা অক্ষরও যদি কেউ ভাংচুর করে,
শব্দ কিংবা বাক্য দিয়ে পিটিয়ে থেঁতলে দাও তার মগজ এবং
তাকে সোপর্দ করো প্রেমিক বাহিনীর কাছে। 

উড়ন্ত চুমুর বদলে কাউকে উড়ন্ত মৃত্যু ছুঁড়ে দিতে দেখলে,
অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করো এবং বিচারের ব্যবস্থা করো। 
মাত্রাবৃত্ত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ঘোষণা করো, যাবজ্জীবন কাব্যদন্ড
কিংবা আমৃত্যু কবিতায় ঝুলিয়ে রাখার রায়। 

খুনিরা কেবলই ভাবে, দেশটা ওদের; কবিরা সবাই মরে গেছে প্রায়। 
রাহুর হাত থেকে ভাষা বাঁচাতে আমার ভাই মরে গেছে,
পিতার জীবন বেচে কিনেছি এ দেশ; ওরা ভুলে গেছে, ওরা ভুলে যায়। 

সূর্যসন্তান - শাকিল রনি (৩য় সংখ্যা)


বরুণ'দা বলেছিল

ঘাবড়াসনে সুকান্ত গতকাল সূর্যটা আসেনি তাতে কি
আগামীকাল ভোরে ঠিক চলে আসবে
তোদের জন্য সূর্যটা আনতেই তো যুদ্ধে যাচ্ছি
মাকে দেখে রাখিস- তুই পাশে থাকলে মা সাহস পাবেন
আমরা সবাই পাশে থাকলে আমাদের বঙ্গমাতা সাহস পাবে
এতো সহজ নাকি রে কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে
আমাদের দেশটাকে ওরা চাঁদ তারার পতাকায় ঢেকে দিবে
ছাড়বার পাত্রটি আমরা নই- ওরা জানেনা রে
আমরা যে বাংলা মায়ের দামাম ছেলে
আমাদের দেশটা অনেক সবুজ- শুধু সূর্যটা একটু দূরে সরে গেছে
দেখিস কাল সূর্যটাকে বাংলার ঘরে নিয়ে আসবো
ভালো থাকিস- মাকে বলিস
তোমার ছেলে স্বাধীনতার সূর্য না এনে ফিরবে না
দাদা, আমার ভয় করে যদি তোর কিছু হয়ে যায়
আরো তো অনেকে আছে, তোর যাওয়ার কি দরকার
আরে পাগল এতো ভয় পাচ্ছিস কেনো
তোর দাদা ঠিকটি ঘরে ফিরে আসবে, দেখে নিস

বরুণ'দা চলে গেলো, চলে গেলো আরো বিয়াল্লিশটি বছর
দাদা আমার আজো ঘরে এলোনা- এসেছিল শুধু একটাই খবর
নয় মাস যুদ্ধ করে দাদা দিয়ে গেছে আমাদের টকটকে লাল এক সূর্য
মা বলেন, তোর দাদা কোথায় আছে জানিস- ঐ সূর্যের বুকে
তোর দাদা প্রতি ভোরে সূর্যের আলো হয়ে ফুটে এই বাংলার বুকে
যতদিন এই পৃথিবীতে সূর্য থাকবে- তোর দাদা বেঁচে থাকবে রে সুকান্ত

দাদা জানিস, মা তবুও প্রতি সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বেলে
রক্ত জবা গাছের নিচে বসে থাকে
তোর জন্য কুশিকাটায় সোয়েটার বুনে- গত বিয়াল্লিশটি বছর ধরে বুনছে
আমি মায়ের পাশে এসে বসলেই আমায় বলে, দেখি একটু পিছন ফিরে বসতো
আমার গায়ে সোয়েটারের মাপ নিয়ে বলে
তুই তো তোর দাদার মতোই হয়েছিস, তোর মাপেই তোর দাদার হয়ে যাবে

মায়ের চোখে অশ্রু গড়ায়- দাদারে আমার বুকটা ফেটে যায়
মাকে বলি, মা চলো ঘরে চলো- ঠান্ডা বাতাস ছেড়েছে ঘরে চল মা
তোমার সুর্যসন্তান এই সন্ধ্যায় আসেনি তাতে কি
দেখো আগামীকাল ভোরে ঠিকটি চলে আসবে। 

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

যুদ্ধের পরের জীবন - রাজীব রায়হান (২য় সংখ্যা)


কুয়াশার কারফিউ শেষ হয়নি তখনো,
তখনো নামেনি পথে পিপড়ের দল,
বুটের ধচমচ শব্দের বদলে দরজায়
বেজে ওঠে মৃদু করাঘাত, 'কেউ আছেন?'
ঘুমভাঙা সেই শীতের সকালে আচমকা
দুয়ারে নির্বাক এসে দাঁড়ায় অবাক অতিথি


বহুদিন, বহু দিন,
বহু কালো রাত পার করে, আবারো সেই
তীব্র জীবন এসে দাঁড়ায় আমার দুয়ারে

ঠিক একই রকম উষ্ণতা নিয়ে ছোঁয় ঠোঁট,
গায়ে তার কেমন যেন যুদ্ধ যুদ্ধ গন্ধ

ফিসফিসিয়ে কানে শোনায় নতুন দিনের বার্তা,
'হার মেনেছে শত্রুর দল, যুদ্ধ এখন বন্ধ
'

তবু বদলায়নি কিছুই,
স্বাধীনতার নামে সড়ক হয়েছে, সৌধ হয়েছে,
যা হবার তা কখনোই হয়নি

স্বাধীনতা আমাকে হাঁটার শক্তি দেয় নি

যেই স্বাধীনতার জোরে বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে
হাঁটে মানুষ, সেই স্বাধীনতা আমার গুলি খাওয়া
বাঁ পায়ের সমান, যুদ্ধের সময় যেটা কেটে ফেলে দিতে হয়েছিলো


'কালকা যাওনের সময় গাড়ির জানলা দিয়া ছেপ ফালাইছে
আবুল রাজাকার
আমার গায়ে আইসা পড়ছে বাজানতহন মনে অইছে, যুদ্ধে একটা পাও হারাইয়া ভুল করছিপাওডা থাকলে কইষ্যা একটা লাত্থি মারতে পারতাম অরেঅহন তো নিজেই লড়তে পারি না' বলছিলেন ফুটপাতে শুয়ে ভিক্ষে করা একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

দুঃখিত স্বাধীনতা
এবারের বিজয় দিবসেও আমি তোমাকে স্যালুট করতে পারবো না


-----------------------