আমাদের পরবর্তী সংখ্যায় লেখা পাঠাতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ এ ইনবক্স করুন অথবা ইমেইল করুন Ghuri2014@hotmail.com এই ঠিকানায়।

ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

সাহিত্যকে স্বাধীন ভাবে বিকশিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা।

(প্রথম সংখ্যা)ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

সকল অপেক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে ২৯শে জুলাই "ঘুড়ি–একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা" এর "প্রথম সংখ্যা" প্রকাশ পেয়েছে। ৪টি ছোট গল্প, ২টি প্রবন্ধ, ২টি প্রতিবেদন ও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে প্রথম সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে। তার মাঝে আছে বেশ কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের লেখা। আশাকরি সবার কাছে লেখা গুলো ভালো লাগবে।

(দ্বিতীয় সংখ্যা)ঘুড়ি - একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা

মহান বিজয় দিবসে আমাদের "ঘুড়ি–একটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা" এর "দ্বিতীয় সংখ্যা" প্রকাশ পেয়েছে। ৪টি ছোট গল্প, ১টি প্রতিবেদন ও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে দ্বিতীয় সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে। তার মাঝে আছে বেশ কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের লেখা। আশাকরি সবার কাছে লেখা গুলো ভালো লাগবে।

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

আমাদের কাছে লেখা পাঠানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজঃ www.facebook.com/Ghuri2014 এ ইনবক্স করুন অথবা ই-মেইল করুনঃ Ghuri2014@hotmail.com

প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

মিশর রহস্য - আশরাতুল সৈকত (১ম সংখ্যা)



আজকের এই আধুনিক যুগেও পিরামিড এক দুজ্ঞেও কিংবদন্তী। কি করে নির্মিত হয়েছিল পিরামিড সঠিক ধারনা কেউ করতে পারে না। মিশরের পিরামিড গুলোর মধ্যে ‘শিঅপস’ পৃথিবী বিখ্যাত। ‘শিঅপস’ পিরামিডের উচ্চতাকে ১০০ কোটি দিয়ে গুণ করলে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের সমান অর্থাৎ নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল হবে। পিরামিডটির মাঝখান দিয়ে একটি মধ্যরেখা টানা হলে ওটা মহাদেশ ও মহাসাগর গুলোকে সমান দুই ভাগে ভাগ করবে। এর ভূমির ক্ষেত্রফলকে এর উচ্চতার দ্বিগুণ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত ৩.১৪১৫৯। পৃথিবীর ওজনের হিসাবও পাওয়া গেছে এখানেই। পিরামিড নির্মিত হয়েছে পাথুরে জমির উপর। অনেক যত্নে নিখুঁতভাবে আনুভূমিক করা হয়েছে জমিটুকুকে। কে এসব শিখিয়েছিল পিরামিড নির্মাতাদের? প্রাচীন ইঞ্জিনিয়াররা কি অংকে এতই পারদর্শী ছিল? সঠিক জবাব কেউ দিতে পারবেনা। আজকের অতি আধুনিক প্রয়োগ কৌশল হাতে নিয়েও ‘শিঅপস’ তো দূরের কথা একটি সাধারণ পিরামিডের দুর্বল নকলও কেউ করতে পারছেনা। বোঝাই যায় পিরামিডের নকশা করার পেছনে কাজ করেছে এক অকল্পনীয়ও শক্তিশালী কোন মাথা। এই মাথা প্রাচীন মিশরীয়দের হতে পারে। তাহলে কে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ? মোট ২৬০০০০০ পাথর লেগেছে শুধু ‘শিঅপস’ তৈরিতেই। পাথরগুলোর জোড়ার মাঝের ফাঁক এতই সূক্ষ্ম যে দুটো জোড়ার মধ্যকার ফাঁক এক ইঞ্চির প্রায় এক হাজার ভাগের এক ভাগ। তাছাড়া হিসেবে দেখা গেছে, ছাব্বিশ লাখ পাথর সাজিয়ে ‘শিঅপস’ তৈরিতে সময় লেগেছে সাতশো বারো বছর। অতদিন কি ‘শিঅপস’ পিরামিডের নির্মাতা কারাও খুকু বেঁচে ছিলেন? নিশ্চয়ই না! তবে কি এর রহস্য? বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে প্রতিটি পিরামিড নির্মাণ করা হয়েছে কোন না কোন তারার অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। কিন্তু মিশর সভ্যতার প্রথম দিকে জ্যোতির্বিদ্যার কোন নজির পাওয়া যায় নি। এছাড়া ‘লব্ধক’ নামে একটি তারার প্রতি মিশরীয়দের আগ্রহ ছিল অসীম। নীলনদে যখন বন্যা নামে, মেমফিস থেকে ভোরবেলা দিগন্তের কোলে দেখা দেয় ‘লুব্ধক’। খ্রিষ্টপূর্ব চার হাজার দুশো একুশ বছর আগেকার একটি ‘লুব্ধক’ পঞ্জিকা পাওয়া গেছে। তাতে বত্রিশ হাজার বছরের ও বেশি বর্ষ আছে কিন্তু মিশরীয়রা এত সময় ধরে আকাশের দিকে চেয়ে থাকার সময় পেলেন কোথা থেকে? কি রহস্য লুকিয়ে আছে এর পিছনে? তাছাড়া মমিকৃত দেহগুলোর মধ্যেও দেহকোষ গুলো জীবিত থাকে কীভাবে? কি গভীর রহস্য আছে এর পিছনে? বিজ্ঞানীরা আজো এর সমাধান বের করতে পারে নি। এ রহস্যের সমাধান জানা আছে শুধু সেই প্রাচীন মিশরীয়দের।

গ্রীষ্ম বন্দনা - আহসান হাবিব (১ম সংখ্যা)



কোকিলের গান কার না ভালো লাগে!
কিন্তু সবকিছু চিরস্থায়ী নয় বলে কুহ কুহ ধ্বনি যতই আপনার হৃদয়কে উদ্বেলিত করুক বসন্তের পরে তা আর শোনা যায় না। কাননের কচি পত্র-পল্লব গাঢ় সবুজাভ হয়ে পূর্ণাঙ্গতা পেলে, চৈত্রের কাঠফাটা রোদে কৃষকের মাঝে চৈতালি ফসল তোলার হিড়িক পড়লে আর ঈশান কোণ থেকে আসা ঝাপটা বাতাস যখন অতিথির মত দরজায় কড়া নাড়ে তখন বুঝতে হবে প্রকৃতির আলয়ে গ্রীষ্ম নামে চিরচেনা মেহমান নবরূপে হাজির হয়েছে।

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে গ্রীষ্মঋতুর আমেজ অনুভূত হয়। এই নিদাঘ কালের বিচিত্র বৈশিষ্ট্য আর উপাদান নিয়ে বহু কবি-সাহিত্যিক তাঁদের ভান্ডার পূর্ণ করেছেন। এঁদের কেউ রবি-কাজি, আবার কত বন্দ্যোপাধ্যায়-চট্টোপাধ্যায়। বাস্তবতার নির্যাসে সিক্ত করে তাতে নানান রস-ভাবের মিশ্রণে গ্রীষ্ম হয়ে উঠে ধ্বংসের নয়তো মঙ্গলের প্রতীক।

প্রকৃতিপ্রেমি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গান কবিতায় অতীতের সকল গ্লানি আর অশুভর মুক্তি চেয়ে বৈশাখের কামনা করেন। অন্যদিকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম গ্রীষ্মের কালরূপ বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব-কীর্তি তাঁর ফাটা বাঁশের বাঁশির সুরে ফুটিয়ে তোলেন। শুধু কি তাই!
গ্রামবাংলার স্বর্গনীড় খড়-পাতা আর শনের ছাউনি জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রে দগ্ধ-তুল্য হয়ে উঠে। কখনোবা ঘূর্ণিঝড়ে ঘর গুলো উড়িয়ে নিয়ে দূর-প্রান্তরে খেলা করে, শিলাবৃষ্টিতে ফুটো করে দেয় মাঠে বেঁধে রাখা শালদুধওয়ালা গাভীর উদর; ঝাঁঝরা হয়ে যায় বাঙ্গি, খিরা আর তরমুজের খেত। মাঝেমধ্যে হাটে-ঘাটে,পথে-প্রান্তরে মানুষকেও হতে হয় এই নিষ্ঠুরতার শিকার। এসময় অনাবৃষ্টিতে পুকুর’ খাল-বিল, নদী-নালার পানি শুকিয়ে যায়, নলকূপ আর কুয়ার জলের স্তর নিচে নেমে গিয়ে দেখা দেয় সুপেয় পানির অভাব। শহরের মানুষ গুলো হয়তো তার সবটুকু আঁচ পায় না। অসহনীয় গরমকে এরা শীতলি যন্ত্র দিয়ে জয় করে নিলেও গাঁয়ের মানুষকে এখনও সহ্য করতে হয় তপ্তটিনেরসিসা।
এত কিছুর পরও বাঙালিরা নববর্ষের প্রারম্ভে ফোটা আম-জাম, কাঁঠাল-লিচুর মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধ ভুলেনা এবং পান্তা-ইলিশ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলাদেশি উদযাপন করে পহেলা বৈশাখ। শহর কিংবা গ্রামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো হালখাতার আয়োজন করে আপ্যায়ন করে নিজ নিজ খরিদ্দার- মক্কেলদের। বাংলার ঘরে ঘরে উৎসবের
মহীরুহ গজে উঠে। আর জ্যৈষ্ঠের সমীরণে পাকা ফলের সুবাস আমাদের নাকে এসে সুড়সুড়ি দিয়ে জানিয়ে দেয় যে,আত্মীয়ের বাড়িতে (আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ ) মৌসুমি ফলের বেহার দিতে হবে। দুধের মাছিরাও এসময়ে ফলরাজ্যের বন্ধুদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় একান্তই অতিথি পরায়নতার গুনে। যা আমাদের করেছে প্রকৃতির অকৃতদার আত্মীয়। ঋতু বৈচিত্র্যের গুণে বাঙালির চরিত্রে যেমন রয়েছে রুক্ষতার-কোমলতার ছাপ, তেমনি রয়েছে সংগ্রাম আর বিদ্রোহের ভাব। এসব নিয়ে বাঙালি হয়ে উঠেছে প্রকৃতির সর্বজনীন অধিবাসী।