বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫
সূর্য তুমি স্বাক্ষী - আসাদ সুমন (৩য় সংখ্যা)
মন খারাপ করে ছোট্ট চায়ের দোকানটাতে বসে আছেন শামসু মিয়া। ভালো
নাম শামসুর রহমান। দোকান না বলে খুপড়িঘর বলাই ভালো। কালো দাগ পড়া গোটা পাঁচেক কাপ আর দুমড়ানো
দুইটা কেটলি নিয়ে তার দোকানদারি। কয়েকটা টোস্ট বিস্কুট ঝুলছে দোকানের সামনের
অংশে। কয়েকটা কমদামী সিগারেটের প্যাকেট আর বিড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার সামনে। বাংলাদেশের গ্রাম গুলোর চেহারা বদলে যেতে শুরু করেছে আরো কয়েক বছর আগে থেকেই। গ্রামে এখন বিদ্যুৎ,ডিস লাইন সহ নাগরিক প্রায় সকল সুবিধাই পৌঁছে
গেছে। তবে কেন জানি মুকসুদপুর গ্রামটা যেন থমকে আছে শত বছর আগের জায়গাতেই। গ্রামের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি এখনো কাঁচা। শামসু মিয়ার দোকানটা গ্রামের দৈন্যতা আরো
বাড়িয়েছে। মাটির তৈরি দোকানটির চালেও টিন নেই। ছন দিয়ে কোনমতে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। যেকোনো মুহুর্তে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ার জন্য দোকানটা যেন একেবারে তৈরি হয়ে
আছে। এখন শুধু প্রকৃতির দয়ার অপেক্ষা।
শামসু মিয়ার মন আরো খারাপ হচ্ছে। বিরক্তি
প্রকাশ করতেও পারছেন না। যে
দুজন ক্রেতা দোকানের সামনের ভাঙ্গা বেঞ্চটায় বসে আছেন তাদের তিনি একদম সহ্য করতে
পারেন না। কিন্তু সামনে কিছু বলার সাহস তার নেই বলেই বিরক্তি বেড়েই চলেছে। তিনি মনে মনে বললেন 'কুত্তার বাচ্চাদুইটা যায়না ক্যান?'
'তাইলে অবশেষে মন্ত্রী হয়েই ছাড়লেন সোবহান সাব। তার খেইলডা দেখলা রজব মিয়া। '
কথাটা বলেই পিচ করে পানের পিক ফেললেন বশির
মিয়া।
বশির মিয়া আর রজব আলির হাবভাবে খুব শীগগির
দোকান ছেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। চা খাওয়ার পরে এবার আরাম করে পান চিবুচ্ছেন
দুজনেই। দুজনের কথাবার্তা বিষের মতলাগছে শামসু মিয়ার কাছে। চায়ের
কেটলি নামিয়ে আগুনের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে অন্যমনস্ক থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছেনা খুব একটা। না শুনতে চাওয়া কথাগুলো যেন আরো স্পষ্ট হয়ে
বিঁধছে বুকের ভেতর।
'তা আর বলতে। চক্ষের সামনেই তো খেইলডা দেখলাম। নমিনেশনই দেয়না,আর এহন মন্ত্রী সোবহান সাব। টেকা থাকলে সব হয়। দেশে ঢুকতে না পাইরা কতগুলা বছর পালাইয়া
রইলেন পাকিস্তানে। শেখ সাব মরার পরই সবকিছু রাতারাতি বদলাইয়া গেলো। এহন কার সাহস আছে তারে সোবহান রাজাকার কয়। মন্ত্রী সাব কওয়া লাগব। মন্ত্রী সাব। নাহয়
কল্লা থাকবনা ঘাড়ের উপর। "
'একদম ঠিক কথা। '
রজব আলির কথায় সায় দেয় বশির মিয়া। 'অতো
আগের কথা মনে রাইখ্যা লাভ নাই। যার পা ধইরা থাকলে আমাগো পেটে ভাত যাইব তার
পা চাটতেও আমাগো আপত্তি নাই' যোগ করে বশির মিয়া।
'হক কথা। একদম
ঠিক কথা। ' সাথে সাথেই সায় দেয় রজব আলি। আরো
কিছুক্ষণ বকবক করে বিদায় হয় দুইজন। শামসু মিয়া যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। শব্দ করেই বলে উঠেন 'শালা দুইড্যা আসলেই কুত্তার বাচ্চা। '
ক্ষুদে মুক্তিযোদ্ধা - তানভীর (৩য় সংখ্যা)
১২:৫৯ PM
"গল্প ও কবিতা প্রতিযোগিতা - ১", ৩য় সংখ্যা, গল্প
এখন আর কোন পড়াশুনা করতে হয় না। তবু ভাল লাগেনা তার। সারাদিন বসে বসে রেডিও শোনে সে। রেডিওতে যুদ্ধের আহ্বান শুনতে পায়। রক্তেঝর ওঠে যখন সে যুদ্ধের গান শুনে। এক সময় সে বুঝতে পারে এই দেশপাকিস্তানীরা দখল করতে যাচ্ছে। শত্রুদের শায়েস্তা করতে হবে।
একদিন একবন্ধু বলল পোড়াবাড়ীটাতে নাকি মুক্তিযোদ্ধারা থাকে। ছোটনকে আর পায় কে,সোজাওদের কাছে গিয়ে হাজির। গিয়ে বলল "আমি যুদ্ধে যেতে চাই"। কমান্ডার সাহেববললেন "এতটুকুন বাচ্চা তুমি,আরো বড় হও,তারপর আইসো"। কিন্তু ছোটনতো নাছোরবান্দা। তাই তাকে কমান্ডার একটা কাজ দিলেন। একটা জায়গা থেকে মাঝে মাঝেভাতের বাটিতে করে হাতবোমা আনতে হবে। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে যে মাঠে ভাতনিয়ে যাচ্ছে সে বাবার জন্য। ছোট মানুষ। কেউ সন্দেহ করবেনা। মহানন্দে সেকাজটা করে যাচ্ছিল। আর যোদ্ধাদের ট্রেনিং দেখেই সময় পার করছিল।
একদিন শুনলো যে ওদের গ্রামের স্কুলে নাকি পাক আর্মিরা ক্যাম্প করেছে। ছুটেগিয়ে কমান্ডারকে জানালো সে। কমান্ডার তাকে বললেন,"ছোটন,আইজক্যার খ্যাপটারপর আর বোমা আনতে যাইস না। রিস্ক আছে"।
শেষবারের মত বোমা নিয়েফিরছে সে। রাস্তায় একজনের কাছ থেকে জানলো ওদের বাড়ীতে নাকি মিলিটারি গেছে। এক দৌড়ে বাড়ীতে গেল ছোটন। গিয়ে দেখে বাবা-মা আর নেই। মিলিটারিরা ওদের গুলিকরে মেরে ফেলেছে। প্রতিবেশিরাও পালিয়েছে। কবর দেয়ারও কেউ নেই।
ছোট্ট ছোটন কাঁদলো সন্ধ্যা অবধি। তারপর যখন অন্ধকার ঘনাল। বোমাগুলো বের করল। সে জানে কিভাবে এগুলো ব্যবহার করতে হয়। সারাগায়ে পাতিলের কালি মেখে বাড়ীথেকে বের হল। মিলিটারি ক্যাম্পের পাশে ঝোপের মধ্যে গিয়ে দাঁড়াল। ওইতো দেখাযাচ্ছে ওদের অফিসারকে। বারান্দায় টেবিলের পেছনে বসে সিগারেট খাচ্ছে আর কিসব বলছে। সামনে বাকিরা দারিয়ে ওর নির্দেশ শুনছে। ওরাইতো বাবা-মা কে মেরেছে। সবাইকে মেরে দেবে ওরা। দেশটা কেরে নেবে। না। তা হবেনা। আজ ওদের শেষ করেদেব। এসব ভাবতে ভাবতে ওদের লক্ষ করে একে একে বোমা ছুড়তে শুরু করল ছোটন। বোমার আঘাতে ছোট আর্মি ক্যাম্পটা নরকে পরিণত হল। দিশেহারা হয়ে পরলো পাকসেনারা। দ্রিম দ্রিম আকাশ বাতাস কাঁপানো শব্দের আড়ালে ঢাকা পরলো ওদেরআর্তনাদ। একের পর এক দ্রুত সবগুলো বোমা ছুরেই প্রাণপণ দৌড় দিল সে। এ দৌড়শুধু এক ছোটনের দৌড় নয়। এক ক্ষুদে মুক্তিযোদ্ধার দৌড়। বিজয়ের দৌড়। যে দৌড়েরলক্ষ্য- প্রিয় স্বাধীনতা।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)










